ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিঠামইনে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেল সিআইডি

মিঠামইনে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেল সিআইডি
  • আপলোড তারিখঃ 16-05-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 18311 জন
মিঠামইনে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলীর  বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেল সিআইডি ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728


মোক্তার হোসেন গোলাপ  মিঠামইন থেকে 

​কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ  ইয়াকুব আলী খন্দকারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের পাশাপাশি মাদ্রাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা  কোরবান আলীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

​তদন্ত প্রতিবেদনের মূল তথ্যাদি

​সিআইডি-র এসআই মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালতে ২৭৭ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। 

দায়ের করা ​ সিআর মামলা নং-৫৩৯/২০২৫। বিবাদীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৩/৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। 

​ বিবাদীগণ মাদ্রাসার তহবিল থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলন করেছেন।

​নির্দিষ্ট ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ঘাগড়া বাজার শাখা থেকে চেকে  টাকাউত্তোলন করে  আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​ উন্নয়ন কাজের নামে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে 'ঘুষ' দেওয়ার অজুহাতেও লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ইয়াকুব আলী খন্দকার মিঠামইন উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি। তিনি ​২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইয়াকুব আলী খন্দকার চমকপুর  ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায়  অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন।  তারপর থেকে শুরু হয় তার লাগামহীন  দুর্নীতি। ২০২৫ সালে মুরশিদুল আলম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব  ইয়াকুব আলীর দুর্নীতি ও  অনিয়ম ধরা পড়ে। তারপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মসজিদুল আলম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ ৪ জুডিশিয়াল  ম্যাজিস্ট্রেট আমল  গ্রহণকারী আদালতে মামলা দায়ের করেন।সি আর মামলা নাম্বার ৫৩৯/২০২৫ইং।বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সিআইডির এস আই নজরুল ইসলাম অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন এবং  । তদন্ত গত ২৭ এপ্রিল তারিখে বিজ্ঞ আদালতে ২৭৭ পিষ্টার একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।  

এর আগে মাদ্রাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির মিঠামইন  উপজেলা নির্বাহী অফিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজকে অন্তর দায়িত্ব দেওয়া হয় কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত না করেই ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

​উল্লেখ্য যে, অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী খন্দকারের  বিরুদ্ধে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও  শহীদ জিয়ার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এবং তারেক জিয়ারছবি  পোড়ানোর অভিযোগে ও একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিঠামইন থানার  মামলা নং  ২ তারিখ ৯ / ৯/২০২৪ ইং। ওই মামলায় ইয়াকুব আলীকে  ঘাগড়া বাজার থেকে গ্রেফতার করা হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

মাদ্রাসার  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুরশিদ আলম এই প্রতিবেদককে  জানান ​ ইয়াকুব আলী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার প্রায় ৩০ লাখ টাকা লুট করেছেন। 

ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী  এবং জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক  তফসির খান সহ  মাদ্রাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ মেম্বার  জানান চমকপুর গ্রামের মৌলানা হেলিম হুজুরের প্রচেষ্টায় এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন এই মাদ্রাসার চেয়ার নিয়ে  অভ্যন্তরের দেখা দিয়েছে দলাদলি । এতে করে  মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান নিম্নমুখী হতে চলেছে।  জরুরীভাবে তাদের  দলাদলি  নিরসন করে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সবাই এগিয়ে আসার  আহ্বান জানিয়েছেন তারা । 

  অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী খন্দকারের যোগাযোগ করা হলে  তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানানো হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক এর বেশি কিছু না। 

​বর্তমানে একটি বিশেষ মহল এই বিশাল অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করছেন  মামলার বাদী পক্ষ।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ ADMIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

গফরগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার