আমিনুল হক,নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানা এলাকায় প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের পাঁচতলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রিয়া আক্তার রিতা (২০) নামের এক পোশাকশ্রমিক তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খুলশী থানা পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আবদুর রহমান শেখকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে।
আজ সোমবার (২৫ মে) এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলার সোনাগাজী মডেল থানা এলাকার বাদামতলী থেকে আব্দুর রহমান শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে,গ্রেপ্তার আবদুর রহমান শেখ বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ভাটখালী এলাকার মৃত সোহরাব শেখের ছেলে। সে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক আবদুল হামিদ সড়ক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্র থেকে জানা যায়, নিহত রিয়া আক্তার রিতা চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় থেকে সিডিএ মার্কেটের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই কারখানায় চাকরি করার সুবাদে আবদুর রহমানের সঙ্গে রিয়ার পরিচয় হয়। প্রায় তিন-চার মাস আগে একটি মারামারির ঘটনায় আবদুর রহমানের চাকরি চলে যায়। এরপরও সে বিভিন্ন সময় রিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
খুলশী থানা-পুলিশ জানান, শনিবার (২৩ মে) রাতে কারখানা ছুটির পর কৌশলে রিয়াকে ফয়েজ লেক এলাকায় নিয়ে যায় আবদুর রহমান। পরে সে ‘গুরুত্বপূর্ণ কথা’ বলার অজুহাতে তাকে ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভবনের উত্তর পাশের পাঁচতলার গ্রিলবিহীন সিঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রিয়াকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় আবদুর রহমান। পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই রিয়ার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহত রিয়ার মা মোছাঃ জমিলা বেগম (৫১) বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় আবদুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর পরই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা।”
তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।