ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ড্রেজিংয়ের মাটিতে বদলে যাচ্ছে হাওড়ের চিত্র

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে উঁচু ভূমি এখন কৃষক ও গবাদি পশুর নিরাপদ আশ্রয়
  • আপলোড তারিখঃ 07-05-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 26833 জন
ড্রেজিংয়ের মাটিতে বদলে যাচ্ছে হাওড়ের চিত্র ছবির ক্যাপশন: ভরাট করা জায়গা
ad728


আমিনুল হক,নিজস্ব প্রতিনিধি:

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে উঁচু ভূমি এখন কৃষক ও গবাদি পশুর নিরাপদ আশ্রয়।

হাওড় অঞ্চলের নদ-নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংকৃত মাটি ব্যবহার করে বিভিন্ন নিচু ডোবা ও জলাবদ্ধ এলাকা ভরাটের মাধ্যমে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমি উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। 

এতে কৃষক ও হাওড়বাসীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে।


“বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মিঠামইন উপজেলার ঘোড়াউতরা, বোলাই, শ্রীগাং নদীর অংশবিশেষ এবং ইটনা উপজেলার ধনু নদী, নামাকুড়া নদী ও অষ্টগ্রাম উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর অংশবিশেষের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার” প্রকল্পের আওতায় নামাকুড়া, বৌলাই, শ্রীগাং ও ধলেশ্বরী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে বিভিন্ন নিচু ও জলাবদ্ধ স্থান ভরাট করা হয়েছে।


হাওড় অঞ্চল স্বাভাবিকভাবেই নিচু হওয়ায় বছরের বড় একটি সময়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

এ প্রেক্ষাপটে ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে ভূমি উঁচু করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। 


ভরাটকৃত জমিগুলো এখন ফসল সংরক্ষণের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আগে বর্ষাকালে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল রক্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়লেও বর্তমানে তারা উঁচু ও নিরাপদ স্থানে ধান কেটে এনে মাড়াই ও সংরক্ষণ করতে পারছেন। এতে ফসলের অপচয় কমছে এবং আর্থিক ক্ষতিও হ্রাস পাচ্ছে।


এছাড়া গবাদি পশু পালনেও এই ভূমি উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে আগে গবাদি পশুর নিরাপদ আশ্রয় ও চারণভূমির সংকট দেখা দিত। বর্তমানে ভরাটকৃত উঁচু জমিগুলো গবাদি পশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পশুসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।


বর্তমানে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাতে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফসল কেটে এনে নিরাপদ স্থানে প্রক্রিয়াজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং মাটি দিয়ে উঁচু করা স্থানগুলো খলা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


এ বিষয়ে অষ্টগ্রামের সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে “নদী খননের ফলে সারা বছর নদীতে পানি থাকবে এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। খননের মাটি দিয়ে তৈরি উঁচু স্থানগুলো গবাদি পশুর আশ্রয়কেন্দ্র ও ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে ধলেশ্বরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে ভরাটের হার বেশি হওয়ায় সংরক্ষণ খননের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।”


এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাবের মজুমদার জানান, “প্রকল্পটির কাজ জুন ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ধলেশ্বরী নদীর ভরাটের হার ইতোমধ্যে চোখে পড়ছে। বাস্তবতার আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ ADMIN

কমেন্ট বক্স
notebook

গফরগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার