ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত আটক, রণক্ষেত্র বাকলিয়া,পুলিশের গাড়িতে আগুন

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত আটক, রণক্ষেত্র বাকলিয়া,পুলিশের গাড়িতে আগুন
  • আপলোড তারিখঃ 22-05-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 13725 জন
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত আটক, রণক্ষেত্র বাকলিয়া,পুলিশের গাড়িতে আগুন ছবির ক্যাপশন: উত্তেজিত জনতার অবরুদ্ধ করে রাখা পুলিশের গাড়ি
ad728


আমিনুল হক,নিজস্ব প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ বাকলিয়ার আবু জাফর রোড চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। 

আকটকৃত মনিরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনগণ প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশকে। এসময় কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি ছুড়েও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও পারেনি। 

অবশেষে রাত ১০টায় এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 


সরিয়ে নেবার খবর জেনে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সে সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে উত্তেজিত জনতা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের বাকলিয়া অংশে অবরোধ করে এবং টায়ার জ্বালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানালে পুলিশ ও জনতার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ বিভিন্ন ভাবে স্থানীয় জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টা ব্যাপী স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়ার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বিসমিল্লাহ ম্যানশনে পুলিশ ও অভিযুক্তকে ঘেরাও করে রাখে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দফায় দফায় বিক্ষুব্ধ জনগণকে ধাওয়া করে এবং টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। তখন কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে সাংবাদিকসহ ৩০ জনের মতো আহত হন। 

গতকাল বিকেলে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটার আবু জাফর রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে করে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে রাখেন।




পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকে শিশুটিকে তার নানী–নানাসহ বাসার সবাই খোঁজাখুঁজির পর বিকেলে পাশের একটি ভবনের সিঁড়িঘরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ধারণা করেন, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তখন তার পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ এ চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান শিশুটির চাচা মাসুম। 


শিশুটির সাথে ধারণা করা বিষয়টি মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মনির হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে গণপিটুনি দিতে শুরু করলে বাকলিয়া থানা পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়।


অভিযুক্ত মনিরকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনগণ চারদিকে ঘেরাও করে রাখে। এসময় রুমে ভেতরে  মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে শয়তানে পেয়েছে। আমি কিছু করিনি। আমার দোষ, আমার ভুল হয়েছে।’



স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন এ বিষয়ে  জানান, শিশুটি তার নানীর সাথে থাকেন। তার বাবা গাড়ি চালান, মা গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অভিযুক্ত মনির পাশের একটি ডেকোরেশনে কাজ করে। ওই সময় সে ডেকোরেশনের কাপড় ধোয়ার কাজ করছিল। তখন সময় দুপুর আড়াইটার মত। এসময় শিশুটি পাশে খেলছিল। সেখান থেকে শিশুটিকে কোন কিছুর লোভ দেখিয়ে সে নিয়ে গেছে। শিশুটির নানী তাকে অনেকক্ষণ না দেখে খুঁজতেছিল। তারপর তাকে এই অবস্থায় পেয়েছে। অভিযুক্ত মনির পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তবে কিছু মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছি। তিনি আরও জানান, শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ ADMIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

গফরগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার