ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সংবাদ সম্মেলনে ‘মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ’ জানালেন বিএনপি নেতা বকুল

সংবাদ সম্মেলনে ‘মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ’ জানালেন বিএনপি নেতা বকুল
  • আপলোড তারিখঃ 13-05-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 21196 জন
সংবাদ সম্মেলনে ‘মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ’ জানালেন বিএনপি নেতা বকুল ছবির ক্যাপশন: সংবাদ সম্মেলন
ad728


কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বকুল।

আজ (১৩মে) দুপুরে উপজেলার ডুমরাকান্দা বাজারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৯ ও ১০ মে ২০২৬ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “সাংবাদিককে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতার নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল” শিরোনামে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব সংবাদে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, হঠাৎ উদয় হওয়া কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নাহিদুল হাসান রুকন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করেছেন। বকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে অবৈধ তেল ব্যবসা, বালু উত্তোলন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকাকে মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” ঘোষণা করার পর স্থানীয়ভাবে নাহিদুল হাসান রুকনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ শুনতে পান। প্রায় দুই মাস আগে তাকে ডেকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

বকুল দাবি করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়। সেখানে নাহিদুল হাসান রুকন নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও ব্যবসায়ী মো. মাসুম মিয়ার মাধ্যমে তার কাছে ক্ষমা চান। এসময় তাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বকুল বলেন, “আমি বা আমার কোনো লোকজন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করিনি।”

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাংবাদিক রুকনকে চড় মারার দৃশ্য দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডুমরাকান্দা বাজারের তাজা ফুড এন্ড এগ্রো কনজুমার প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী মো. মজনু মিয়া বলেন, “আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওইদিন সালিশটি হয়েছিল। সালিশে বকুল কিংবা বকুলের লোকজন রুকনকে মারধর করেনি। মীমাংসার স্বার্থে রুকনের হিতাকাঙ্ক্ষী মাসুম মিয়া রুকনের পিঠে দুইটি থাপ্পড় দিয়ে বকুলের নিকট ক্ষমা চাওয়ানোর পর বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখলে তার সত্যতা মিলবে।” এছাড়া ওইদিন উপস্থিত একাধিক সালিশানও একই কথা বলেন।

২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও ডুমরাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী মো. মাসুম মিয়া বলেন, “আমি ঘটনাটি মীমাংসার জন্য তাকে নিয়ে যাই। সমাধানের স্বার্থে পিঠে দুটি চর-থাপ্পড় দিয়ে বকুল ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়াই”

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য পাওয়া যায়। বিএনপির নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল মজুদ, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ডুমরাকান্দা বাজারের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও দলিল লেখক মো. সেলিম মিয়া বলেন, “আমার তেলের ব্যবসায় বিএনপি নেতা বকুল ভাই কোনো অংশীদার নন, কখনোই অংশীদার ছিলেন না, উনি তেলের ব্যবসাও করেন না।” একইভাবে ঠিকাদার রতন মিয়া জানান, “বকুলের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বা আর্থিক সম্পর্ক নেই, তিনি নিজেও বালু বা মাটির ব্যবসা করেন না।”

অন্যদিকে ডুমরাকান্দা বাজারের মাতৃকা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী লিটন কর অভিযোগ করেন, “মিষ্টিতে মাছি পড়েছে-এমন একটি ভিডিও ধারণ করে মোবাইল কোর্ট ডাকার ভয় দেখিয়ে নাহিদুল হাসান রুকন আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে পাশবর্তী ভাই বোন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের নূকুল বিশ্বাসের মধ্যস্থতায় ২ হাজার টাকা নেয়।”

একই বাজারের কংক্রিট ও রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আইনুল হক অভিযোগ করেন রুকন, জমি-সংক্রান্ত একটি বিরোধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়। ওই জমি সংক্রান্ত বিষয় আদালতে বিচারাধীন বলে জানা গেছে।


সংবাদ সম্মেলনে খাইরুল ইসলাম বকুল আরও দাবি করেন, নাহিদুল হাসান রুকনের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এসময় তিনি তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন ছবিও উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখান এবং বলেন তারা বিএনপি নেতৃবৃন্দের হেয়-প্রতিপন্ন করতে একটি এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে।


জানতে চাইলে সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রুকন আমার কাছেও একটি ফুটবল খেলার কথা বলে ৩ হাজার টাকা চাঁদা নেয়, পরে তা খেলা কর্তৃপক্ষকে না দিয়ে নিজেই রেখে দেয়। আর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বকুলের বিরুদ্ধে রুকনের আনীত অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে জানান তিনি। এসব মিথ্যা অভিযোগের কারণে কথিত সাংবাদিক রুকনের বিচার চান।”


সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে খাইরুল ইসলাম বকুল তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়ার কুলিয়ারচর উপজেলা প্রতিনিধি নাহিদুল ইসলাম রুকন জার্নাল অব কান্ট্রি বিডি-কে বলেন আমার বিরোদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, যারা আমার বিরোদ্ধে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিয়েছেন তারা সকলেই বিএনপি নেতা বকুলের লোক। তার মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে আমি নিজেও সংবাদ সম্মেলন করবো।


সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলামবকুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ফারুক মিয়া, ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ ADMIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

গফরগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার