ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হাওরের কৃষকদের দাবি: সরকারি প্রণোদনা নয়, চাই স্থায়ী নিরাপত্তা:

হাওরের কৃষকদের দাবি: সরকারি প্রণোদনা নয়, চাই স্থায়ী নিরাপত্তা:
  • আপলোড তারিখঃ 09-05-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 24850 জন
হাওরের কৃষকদের দাবি: সরকারি প্রণোদনা নয়, চাই স্থায়ী নিরাপত্তা: ছবির ক্যাপশন: হাওরের চিত্র
ad728



সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু :​

হাওরাঞ্চলের বিশাল জনপদ আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। আমাদের এই অঞ্চলের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এক একর জমিতে চাষাবাদ করতে একজন কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ক্ষুদ্র কৃষক থেকে শুরু করে বড় চাষি—যিনি হয়তো ৫০ একর পর্যন্ত জমি চাষ করেন—সবারই স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অবলম্বন এই একটি মাত্র ফসল।

​জীবন ও জীবিকার একমাত্র উৎস

​এই বোরো ফসল ঘরে তুলেই একজন কৃষক তাঁর পরিবারের ১২ মাসের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন যাবতীয় খরচ মেটান। শুধু তাই নয়, পরবর্তী বছরের চাষাবাদের পুঁজি জোগাতে অনেককেই ব্যাংক, এনজিও কিংবা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ প্রান্তিক কৃষকও লক্ষাধিক টাকার লোকসান গুনছেন; এই সামান্য প্রণোদনা দিয়ে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়।

​তা সত্ত্বেও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কৃষকের দুরবস্থা ও দুর্গতি বিবেচনা করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ঘোষিত প্রণোদনা ও সহায়তা কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছেন, সেজন্য তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণকারী এই কৃষকদের জন্য এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও টেকসই, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা।


​প্রতি বছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত কিংবা অকাল বন্যার কবলে পড়ে হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষকের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি আর বিনিয়োগ নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। তাই সাময়িক সরকারি প্রণোদনা বা সাহায্য কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

​আমি সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, হাওরাঞ্চলের কৃষকের বলিষ্ঠ কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে দাবি জানাচ্ছি— আমরা শ্রমজীবী মানুষ, আমরা পরিশ্রম করতে জানি। আমরা শুধু প্রণোদনা চাই না, আমরা চাই হাওরাঞ্চলে  কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি ভিত্তিক ক্ষুদ্র কৃষি-শিল্পস্থাপন সহ বিজ্ঞানভিত্তিক স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। এমন অবকাঠামো তৈরি করা হোক, যাতে আমরা নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারি এবং অকাল দুর্যোগের ভয় ছাড়াই ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারি।​হাওরের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং কৃষকের রক্ত জল করা পরিশ্রমের মর্যাদা দিতে স্থায়ী নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।


লেখক: চেয়ারম্যান, অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ, সাবেক আহবায়ক,  অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ ADMIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

গফরগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার