জাবেদ হোসাইন মামুন, ফেনী প্রতিনিধি, ১৩মে, বুধবার:
মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে ত্যাগের মহিমায় যেমনি কোরবানি করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন, তেমনি করে পালিত গবাদি পশুগুলো বিক্রি করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন খামারিরা।
ফেনীর সোনাগাজীতে পবিত্র ঈদুল আজহা কে সামনে রেখে বিক্রির জন্য বিভিন্ন খামারিরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
খামার পর্যায়ে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক খাদ্য খাইয়ে কোরানিতে বিক্রির জন্য প্রায় ১৯ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়াও গ্রামীণ জনপদে বিচ্ছিন্নভাবে আরও প্রায় ১০ হাজাার গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস, খামারি ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৮ জন খামারি রয়েছে। এ খামারিরা বিক্রির জন্য ১৮ হাজার ৩৭৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন।
উপজেলার দক্ষিণ মঙ্গলকান্দি গ্রামের কেএস এগ্রোর মালিক কাজী জাফর উদ্দিন বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পালিত ২২টি গরু কোরবান বিক্রি করতে প্রস্তুত করেছেন তিনি। আমি নিজেও কোরবানি করবো। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, শখের বশিভূত হয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে পশুগুলো পালন করেছেন। সর্বনিন্ম ৭০ হাজার টাকা দুই লক্ষাধিক টাকা দামের ২২টি গরু তার কাছে রয়েছে।
সোনাগাজী বাসমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইকবাল হোসেন বলেন, কাজী জাফর উদ্দিনের মালিকীয় কেএস এগ্রো থেকে তিনি কোরবানির জন্য দুটি গরু কিনে খামারেই রেখে দিয়েছেন।
চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আরমান এগ্রোর ম্যানেজার মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, আরমান এগ্রোতে ২৩টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সর্বনিন্ম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত পালকৃত গরুন দাম হাঁকা হচ্ছে। এরমধ্যে একটি গরু ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে। তবে গরু গৃলো বড় হওয়ায় হাট-বাজারে নেওয়া অনেক কষ্ট হবে বলে তিনি আরও বলেন, গরুগুলো খামারেই রেখে বিক্রি করতে চান। ঈদের পূর্বের দিন পর্যন্ত খামারে বিক্রিত গরু ক্রেতা আলোচনা সাপেক্ষে নিরাপদেই রাখতে পারবেন।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নেবু লাল দত্ত জানান, এবার পবিত্র ঈদুল আজহা কে সামনে রেখে সরকারি হিসেব মতে ১৮ হাজার ৩৭৫টি গরু খামারিরা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮০০টি গরু। ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫০০গরুর। ঘাটতি মেটাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা গরু এনে সেই ঘাটতি মেটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, খামারি, বিক্রেতা, ক্রেতা ও মৌসুমি গরু বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি হাট-বাজারে অতিরক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া জাল টাকা চিহ্নিত করতে একাধিক ব্যাংকের বুথ থাকবে।