নসিহত
-আমিনুল হক নজরুল
মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নসিহত-
কোনো বইয়ের দীর্ঘ ভাষণ নয়,
সবচেয়ে বড় নসিহত হলো-
নিজের বুকের ভেতর মৃত্যুর শব্দ শুনতে শেখা।
যে মানুষটি রাতে ঘুমানোর আগে মনে মনে ভাবে,
“হয়তো এটাই আমার শেষ রাত,”
সে আর কারো হক মারে না।
কারণ সে জানে,
কবরের মাটিতে ক্ষমতার কোনো চেয়ার থাকে না।
যে সকালে বের হওয়ার সময় ভাবে,
“বিকেলের আগেই হয়তো আমাকে সাদা কাপড়ে- মুড়িয়ে নিয়ে যাবে,”
সে আর অন্যায়ের দিকে হাত বাড়াতে পারে না।
তার চোখে দুনিয়ার লোভ ছোট হয়ে যায়,
আর আখিরাতের ভয় বড় হয়ে ওঠে পাহাড়ের মতো।
পাপ আসলে হাত দিয়ে শুরু হয় না,
পাপ শুরু হয় তখন,
যখন মানুষ নিজের মৃত্যুকে ভুলে যায়।
যে হৃদয় কবরকে স্মরণ করে,
সে হৃদয় অহংকারে শক্ত হয় না,
বরং নরম হয়ে যায় শিশিরভেজা পাতার মতো।
সে কাউকে কষ্ট দিতে ভয় পায়,
কারণ সে জানে, মানুষের দীর্ঘশ্বাস-
আকাশ ভেদ করে আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এই দুনিয়া কারো স্থায়ী ঠিকানা নয়।
আজ যার ঘরে আলো, কাল তার কবরেই-
হয়তো সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসবে।
আজ যে মানুষ হাসছে,
কাল তার নামের পাশে লেখা হবে “মরহুম”।
তাই হে পথহারা মন,
গুনাহের আগে একবার শুধু-
নিজের জানাজার কল্পনা করো।
ভাবো, তোমার নিথর শরীরটি-
মসজিদের বারান্দায় পড়ে আছে,
চারপাশে মানুষ ফিসফিস করে বলছে,
“লোকটা ভালো ছিল, না খারাপ ছিল?”
দেখবে, অশ্লীলতা থেমে যাবে, অহংকার ঝরে যাবে,
অন্যায়ের হাত কেঁপে উঠবে।
কারণ মৃত্যুর স্মরণই আত্মাকে-
পরিশুদ্ধ করার সবচেয়ে গভীর জিকির,
আর কবরের চিন্তাই মানুষকে-
দুনিয়ার পাপ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে রাখে।