নাজিম বকাউল , ফরিদপুর :
চুরির জবাবে মানুষ সাধারণত থানায় যায় কিংবা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কিন্তু ফরিদপুরের শামীম আহমেদ যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। নিজের বাবার কবরের ফুলগাছ চুরি যাওয়ার পর, চোরকে খুঁজতে না বেরিয়ে তিনি পুরো গ্রামকেই উপহার দিলেন ১,৫০০টি ফুলগাছ!
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের এই ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো 'টক অব দ্য টাউন'।
যেভাবে গল্পের শুরু:
স্মৃতি চিরকাল ধরে রাখতে বাবা ও দাদির কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী আর শিউলী গাছ বুনেছিলেন শামীম। গাছগুলোতে ফুলও ফুটেছিল। কিন্তু এক সকালে গিয়ে দেখেন, চোরেরা তাঁর আবেগের সেই গাছগুলো উপড়ে নিয়ে গেছে। বুকভরা কষ্ট পেলেও শামীম ভাবলেন অন্যরকম—"চোর নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসে, তাই গাছগুলো নিয়েছে। তাহলে তাকে আরও ফুল দেওয়া যাক!"
পুরো গ্রাম এখন ফুলের বাগান:
যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। শামীম নিজের পকেটের টাকা খরচ করে শ্রমিক নামালেন। গ্রামের ২ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারের ৫০০টি বাড়ির প্রতিটির সামনে পরম যত্নে রোপণ করলেন ৩টি করে গাছ। হ্যাঁ, ঠিক সেই হাসনাহেনা, কামিনী আর শিউলী!
গ্রামবাসীরা অবাক হয়ে দেখছেন শামীমের এই 'ফুলের প্রতিশোধ'। স্থানীয়রা বলছেন, "কয়েক মাস পর যখন এই দেড় হাজার গাছে একসাথে ফুল ফুটবে, পুরো গ্রাম সুগন্ধে মাতাল হয়ে যাবে। চুরির এমন সুন্দর জবাব আর দেখিনি।"
শামীমের স্বপ্ন:
শামীম আহমেদ মুচকি হেসে জানান, এই গাছগুলোর কোনো একটি হয়তো সেই চোরের বাড়িতেও গেছে। গাছ দেখে যদি চোরের মনে অনুশোচনা জাগে, তবেই তিনি সফল। তবে তাঁর স্বপ্ন আরও বড়—তিনি পুরো সদরপুর উপজেলাকে এভাবে সবুজ ও সুবাসিত করে তুলতে চান।
অপরাধকে সুবাস দিয়ে জয় করার এই গল্প প্রমাণ করে, সমাজকে বদলে দিতে মাঝে মাঝে অস্ত্রের চেয়ে একটি ফুলের গাছই যথেষ্ট। শামীমের এই উদ্যোগকে স্যালুট জানাচ্ছে নেটদুনিয়া।