নিজস্ব প্রতিবেদক:
চারিদিকে এখনো ঈদের আনন্দের আমেজ। শহর থেকে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এখনো বিদ্যমান রঙিন আলোর ঝিলিক। ঈদ পরবর্তী সময়ে অলস সময় পার করছে শপিংমলগুলো। প্রতিটি ঘরেই চলছে ঈদের উৎসবের জোয়ার। কিন্তু এই আনন্দের জোয়ারে বুকভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস আর একরাশ অন্ধকার নেমে এসেছে দেশের ডাক বিভাগের ২৩ হাজার অবিভাগীয় (ইডি) কর্মচারীর পরিবারে। প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবের আনন্দ তাদের দুয়ারে এসে থমকে গেছে। তীব্র এক বঞ্চনা আর অভাবের করাল গ্রাসে ঢাকা পড়ে গেছে তাদের ঈদের খুশি।
একই ছাদের নিচে, একই সংস্থায় একই কাজ করেও ভাগ্য আকাশ-পাতাল তফাত। ডাক বিভাগের বিভাগীয় কর্মচারীরা যখন সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা, উৎসব ভাতা ও বোনাস নিয়ে সপরিবারে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে ঠিক তখন উল্টো চিত্র অবিভাগীয় এই কর্মচারীদের ঘরে। সম্পূর্ণ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই ২৩ হাজার শ্রমিকের কপালে জোটেনি কোনো ঈদ বোনাস বা উৎসব ভাতা।
বর্তমান বাজারে যেখানে এক কেজি চাল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে এই কর্মচারীদের মাসিক বেতন মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা! দিনরাত রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মানুষের চিঠিপত্র, পার্সেল কিংবা অতিপ্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে এই ডিজিটাল বাংলাদেশেও তারা পান দৈনিক মাত্র ১৫০ টাকা কিংবা তারও কম।
ভৈরবের আকবর নগর শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার (ইডিএ) সিদ্দিকুর রহমান অশ্রুসজল চোখে এ প্রতিনিধিকে বলেন,
"চার হাজার চারশো টাকায় এখন এক সপ্তাহও সংসার চলে না। বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ চালাব নাকি চাল-ডাল কিনব? ঈদের দিন যেখানে সবাই নতুন জামা পরে ঘুরে বেড়ায়, সেখানে আমার সন্তানরা ছেঁড়া জামা পরে ঘরে বসে থাকে। কোরবানির পশুর মাংস তো আমাদের কাছে এখন বিলাসিতা। আমাদের আবার ঈদ কিসের?"
সত্যিই, এই দুর্মূল্যের বাজারে মাত্র চার হাজার টাকা বেতনে যেখানে তিন বেলা পেট ভরে ডাল ভাত খাওয়াই এক অসম্ভব লড়াই, সেখানে ঈদে ছেলে-মেয়েদের একটা নতুন জামা কিনে দেওয়া কিংবা কোরবানির আনন্দ উদযাপনের কথা চিন্তা করাও তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন।
অবিভাগীয় এই কর্মচারীরা বছরের পর বছর ধরে দেশের যোগাযোগ ও ডাক ব্যবস্থাকে সচল রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অথচ উৎসবের দিনগুলোতে তাদের পরিবারে জ্বেলে দেওয়া হচ্ছে বঞ্চনার আগুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এবারও ঈদ কেটেছে তাদের চোখের জল আর মলিন মুখে।
২৩ হাজার পরিবারের এই মানবিক হাহাকার আর কতকাল চলবে? এই উৎসবের মওসুমে এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নীতিপ্রণেতারা কি এবারও এই নীরব কান্না না শোনার ভান করেই থাকবেন?