ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুরবানি: রক্ত-মাংস নয়, আল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকওয়া, আত্মসমর্পণ ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব।

কুরবানি: রক্ত-মাংস নয়, আল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকওয়া, আত্মসমর্পণ ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব।
  • আপলোড তারিখঃ 27-05-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 9094 জন
কুরবানি: রক্ত-মাংস নয়, আল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকওয়া, আত্মসমর্পণ ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব। ছবির ক্যাপশন: -আমিনুল হক নজরুল
ad728

কুরবানি: রক্ত-মাংস নয়, আল্লাহর কাছে পৌঁছে তাকওয়া, আত্মসমর্পণ ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব।

(প্রবন্ধ)

-আমিনুল হক নজরুল 


কুরবানি ইসলামের এক মহান ইবাদত, যার বাহ্যিক রূপে আমরা দেখি পশু জবাই, রক্ত প্রবাহ আর গোশত বণ্টন। 

কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে কুরবানির প্রকৃত অর্থ এর চেয়েও অনেক গভীর, অনেক বিস্তৃত। 

আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন:

“আল্লাহর কাছে কখনোই পৌঁছে না তাদের গোশত বা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”


কোরআনের এই আয়াত আমাদের শেখায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পশুর মাংস বা রক্তের মুখাপেক্ষী নন। তিনি চান মানুষের অন্তরের অবস্থা, ঈমানের দৃঢ়তা, আনুগত্যের পরীক্ষা এবং আত্মার পরিশুদ্ধতা।


👉কুরবানির মূল শিক্ষা: আত্মসমর্পণ

কুরবানির ইতিহাস শুরু হয় নবী ইব্রাহিম আঃ এবং নবী ইসমাইল আঃ -এর অবিস্মরণীয় ঘটনার মাধ্যমে।

যখন আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা ইবরাহিম (আ.)-কে স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস, নিজের সন্তানকে কুরবানি করার নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। 

আর পুত্র ইসমাইল (আ.) বলেছিলেন:

“হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা-ই করুন।”

এটি শুধু একটি পশু জবাইয়ের ঘটনা নয়; এটি ছিল প্রেমের পরীক্ষা, আনুগত্যের পরীক্ষা, আত্মসমর্পণের পরীক্ষা।


👉কুরবানি মানে অহংকার জবাই;

মানুষের ভেতরে সবচেয়ে বড় শত্রু তার নফস, তার অহংকার, তার আমিত্ব।

কুরবানি আমাদের শেখায়:

পশু জবাইয়ের আগে নিজের অহংকার জবাই করো।

হিংসা জবাই করো। লোভ জবাই করো।

কৃপণতা জবাই করো। হৃদয়ের কঠোরতা জবাই করো।

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন:

“আল্লাহ তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না; তিনি তাকান তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে।”

(সহীহ মুসলিম)

অর্থাৎ, কুরবানির পশুর আকার নয়, নিয়তের বিশুদ্ধতাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।


👉তাকওয়া: কুরবানির প্রাণ;

তাকওয়া মানে আল্লাহকে ভয় করা নয় শুধু; বরং এমন সচেতনতা, যেখানে বান্দা প্রতিটি কাজে ভাবে: “আল্লাহ কি এতে সন্তুষ্ট হবেন?”

কুরবানির মাধ্যমে একজন মুমিন ঘোষণা দেয়: 

“হে আল্লাহ! আমার সম্পদ, আমার ভালোবাসা, আমার কামনা, আমার অহংকার, সবই তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম।”

এটাই তাকওয়া।


👉সামাজিক ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতা;

কুরবানি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এটি সামাজিক সংহতিরও শিক্ষা দেয়।

কুরবানির গোশত তিন ভাগ করার সুন্নাহর মাধ্যমে ইসলাম শেখায়:

নিজের জন্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর জন্য,

গরিব ও অসহায়ের জন্য।

এতে ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে, সমাজে ভালোবাসা জন্মায়, ভ্রাতৃত্ব মজবুত হয়।

রাসূল সাঃ বলেছেন:

“সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।”

কুরবানি তাই শুধু পশু জবাই নয়, এটি ক্ষুধার্তের মুখে হাসি ফোটানোর নাম।


👉আজকের বাস্তবতা:

আজ অনেকে কুরবানিকে প্রতিযোগিতা বানিয়ে ফেলেছে: কার গরু বড়, কার দাম বেশি, কার ছবি বেশি ভাইরাল।

কিন্তু কুরবানির ময়দানে আল্লাহ দাম দেখেন না, দেখেন দিল।

যে হৃদয়ে রিয়া আছে, প্রদর্শন আছে, অহংকার আছে, সে হৃদয়ের কুরবানি অপূর্ণ।


👉উপসংহার:

কুরবানি মানে পশুর গলায় ছুরি চালানো নয়, নিজের নফসের গলায় ছুরি চালানো।

কুরবানি মানে ইব্রাহিমের মতো ভালোবাসা, ইসমাইলের মতো আত্মসমর্পণ, মুহাম্মদ সাঃ এর মতো উম্মতের প্রতি মমতা, আর সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ।

তাই আসুন, এ কুরবানিতে শুধু পশু নয়, নিজের অহংকার, লোভ, হিংসা, কৃপণতা এবং হৃদয়ের কালিমাও জবাই করি।

তবেই আমাদের কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হবে, ইনশাআল্লাহ।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ ADMIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

গফরগাঁওয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার