মাদারিপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর পৌর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় রবিবার দিবাগত রাত বারোটার দিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মায়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে ছিল, আর একই সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ৮ মাস বয়সী শিশু ও তার বাবার মরদেহ।
নিহতরা হলেন চিন্ময় দাস (২২), তার স্ত্রী ইশা দাস (১৯) এবং তাদের ৮ মাস বয়সী কন্যা জেনি। চিন্ময় দাস মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের রিপন দাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে মাদারীপুরে ফেরেন চিন্ময়। ইশা দাস নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। তারা আমিরাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন, যেখানে তাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় মিষ্টি বাড়ৈ থাকতেন।
মিষ্টি বাড়ৈ জানান, পরিবারটি বাসায় ওঠার পর তিনি ঘরের চাবি দিয়ে বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে অনেক ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা 999-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এদিকে, বাড়ির মালিক সান্তনা রানী দত্ত জানান, প্রায় তিন বছর ধরে মিষ্টি বাড়ৈ ওই বাসায় ভাড়া থাকছেন এবং তার স্বামী মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নও উঠেছে।
মাদারীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে চিন্ময় প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শিশুকন্যাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন।
তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।