বদরের ধূলিধূসর প্রান্তরে সত্যের পদচিহ্ন
-আমিনুল হক নজরুল
বদরের প্রান্তর আমাদের শুধু-
একটি যুদ্ধের ইতিহাস শোনায় না,
বরং শোনায় সত্যের ধৈর্যের দীর্ঘ উপাখ্যান।
সেদিন যারা দাঁড়িয়েছিল, তারা ছিল সংখ্যায় অল্প, দেহে রোগা, হাতে ঝলমলে ঢাল-তরবারীও ছিল না; কিন্তু তাদের অন্তরে ছিল এক অদম্য বিশ্বাস,
এক অনমনীয় ন্যায়বোধ।
অপরদিকে দাঁড়িয়ে ছিল-
অহংকারের সুসজ্জিত বাহিনী, চোখধাঁধানো রণসজ্জা, ক্ষমতার প্রদর্শনী, বাহ্যিক জৌলুসের এক মিথ্যা মহিমা।
ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে,
অস্ত্রের ঝনঝনানি সবসময় বিজয়ের ভাষা নয়;
কখনও কখনও নিরস্ত্র সত্যই-
সবচেয়ে প্রবল তরবারী হয়ে ওঠে।
বদরের নিরীহ যোদ্ধারা আমাদের শিখিয়েছে,
ন্যায় কখনও তাড়াহুড়ো করে না।
সে ধীরে হাঁটে,
কারণ তার পায়ের নিচে থাকে বিশ্বাসের মাটি;
তার চোখে থাকে ইনসাফের আলো।
মিথ্যার আলোকরশ্মি অনেক সময় দ্রুত ছুটে যায়, মুহূর্তের জন্য পৃথিবীকে চমকে দেয়;
কিন্তু সেই আলো ক্ষণস্থায়ী,
ঠিক মরুভূমির মরীচিকার মতো-দেখতে উজ্জ্বল,
স্পর্শে শূন্য।
সত্যের বিজয় আসে নীরবে, অনেকটা ভোরের মতো।
সে হঠাৎ আসে না, ধীরে ধীরে অন্ধকার সরিয়ে দেয়, আর তখন মানুষ বুঝতে পারে-
যে আলোকে তারা এতদিন হারিয়ে গেছে ভেবেছিল, সেটি আসলে কখনও নিভে যায়নি।
বদর তাই শুধু অতীতের এক যুদ্ধ নয়,
বদর প্রতিটি যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা- নিরীহ মানুষের বুকের ভেতর আজও জ্বলতে থাকা-
এক অমর প্রদীপ।