ভারতের গুজরাটে গরু জবাইয়ের অভিযোগে এক মুসলিম যুবককে আটক করে পুলিশের গাড়ির বনেটের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন তাকে একের পর এক আঘাত করছে, তখন ওই যুবক যন্ত্রণায় চিৎকার করে বলছেন, “আল্লাহ, বাঁচাও!”
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আহমেদাবাদের ভেজালপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি আবাসিক এলাকার কাছে খোলা মাঠে গরু জবাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারা ঝোপের আড়ালে কয়েকজনকে গরু জবাই করতে দেখে। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
অভিযানে পুলিশ প্রায় ৫২০ কেজি মাংস জব্দ করে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার রুপি। এছাড়া একটি জীবিত বাছুর, ধারালো ছুরি, একটি অটোরিকশা, নম্বরবিহীন একটি গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা হয়। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আটক ব্যক্তিদের একজনকে পুলিশের গাড়ির সামনের অংশে (বনেট) বেঁধে রেখে দায়িত্বরত সদস্যরা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও নেটিজেনরা পুলিশের এই আচরণকে অমানবিক, অপেশাদার ও আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং গুজরাট পশু সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন অভিযুক্তের ওপর এ ধরনের শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।