মো. নজরুল ইসলাম
হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইনে বৃষ্টি ও পানির পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা কাটেনি। নিচু জমি তলিয়ে যাওয়ায় কাটা ধান রক্ষা করতে অলওয়েদার সড়কেই খলা বানিয়ে প্রানান্তর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। একদিকে সামান্য রোদে ধান শুকানোর চেষ্টা, অন্যদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে আবার ভিজে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর তিন হাওর উপজেলায় ৬৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮২ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।
ইটনার কৃষক আবদুল মালেক বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কাটা ধানের অর্ধেকও শুকাতে পারিনি। অনেক ধানে চারা গজিয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে সড়কে ধান শুকাচ্ছি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি বৃষ্টি এলেই সব নষ্ট হয়ে যায়।
অষ্টগ্রামের কৃষক বাদল মিয়া জানান, ছয় একর জমির মধ্যে তিন একরই তলিয়ে গেছে। অবশিষ্ট ধানের বেশিরভাগই পঁচে গেছে। তিনি বলেন, সকালে শুকালেও বিকেলে বৃষ্টিতে আবার ভিজে যায়। আমাদের মতো অনেকেই এখন চরম সংকটে।
মিঠামইনের নূরুল ইসলাম বলেন, হাওরের খলাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিকল্প কোনো জায়গা নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সড়কে ধান শুকাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অষ্টগ্রাম জিরোপয়েন্ট থেকে কাস্তুলের ভাতশালা হয়ে মিঠামইন এবং ইটনার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে সড়কের ওপর ধান শুকাচ্ছেন কৃষকরা।
অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান আরও বেড়েছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১১০০ টাকা, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। ফলে খরচ তো উঠছেই না, শ্রমের মূল্যও মিলছে না।
ভাতশালার কৃষক হারুন মিয়া বলেন, ঋণ করে চাষ করে আজ সব হারিয়েছি। তিনি কৃষি ঋণ মওকুফসহ ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।