শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া নড়িয়া উপজেলায় কলেজ ছাত্রী তানজিলার রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় এখনো চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, সোমবার (৪ মে ২০২৬) দুপুরে শত ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তানজিলার নিজ বাড়িতে যান শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সফিকুর রহমান কিরন।
এ সময় তিনি তানজিলার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তানজিলার মা এমপি কিরনকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তখন এমপি কিরন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
এদিকে, নড়িয়ায় কলেজ ছাত্রী তানজিলার রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলারগাঁও এলাকার তানজিলা আক্তারের সঙ্গে বাহির কুশিয়া এলাকার অপু বেপারীর গত ৪ জানুয়ারি সম্পর্ক করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তানজিলার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে অপু ও তাঁর পরিবার। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় ২৩ এপ্রিল রাতে তানজিলাকে তাঁর মাদকাসক্ত স্বামী অপু বেপারী, শশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ি আলো বেগম শারীরিক নির্যাতন করে। পরে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মূলফৎগঞ্জে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। তাকে বাড়িতে এনে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখে তানজিলার স্বামী ও শশুর-শাশুড়ি। পরে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
পরে মামলার পর ২৭ এপ্রিল শরীয়তপুর আদালত চত্বর থেকে তানজিলার স্বামী অপু বেপারী, শশুর রাসেল বেপারী ও শাশুড়ী আলো বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।