উজানের জল, ডুবে যাওয়া স্বপ্ন
-আমিনুল হক নজরুল
হাওরের বুক জুড়ে আজ কেবল
পানির নীরব দখলদারিত্ব,
আর মানুষের চোখে ভাসে অচেনা হাহাকার।
যে মাটিতে স্বপ্ন বোনা হয়েছিল,
সেই মাটিই আজ জলের নিচে নির্বাক কবর।
উজানের ঢেউ এসে ভাগ্য যেন নির্দয় হাতে-
ছিঁড়ে নিলো সারা বছরের পরিশ্রমের গোপন প্রার্থনা।
ধানের শিষগুলো ডুবে গিয়ে যেন;
শেষবারের মতো ফিসফিস করে বলল-
“আমরা আর ফিরবো না।”
কৃষকের অভিমানী চোখে আজ আকাশও অপরাধী, কারণ বৃষ্টি আর দয়া একসাথে নামেনি কখনো।
তাদের কাঁধে জমে থাকা ক্লান্তি আজ-
নদীর স্রোতের মতোই অনিয়ন্ত্রিত,
অজানা গন্তব্যে ভাসমান।
চুলোর আগুন নিভে গেছে, কিন্তু বুকের ভেতর-
জ্বলতে থাকা আগুন আরও গভীর, আরও নির্মম।
এই জল শুধু জমি নেয়নি,
যেন চুপিসারে মানুষের হাসিও চুরি করে নিয়েছে।
হাওরের বাতাসে আজ আর ধানের গন্ধ নেই,
আছে ভাঙা স্বপ্নের ভেজা গন্ধ।
যে হাতগুলো ফসল তুলতো,
আজ তারা শূন্যতা ছুঁয়ে কাঁপে—অসহায় আর ক্লান্ত।
জীবন যেন এখানে প্রতিবারই নতুন করে শুরু হয়,
কিন্তু শেষটা সবসময় একই রকম ডুবে যাওয়া।
আর এই ডুবে যাওয়া গল্পগুলোই নিঃশব্দে-
লিখে যায় মানুষের সবচেয়ে গভীর বেদনার ইতিহাস।